ইসি অভিমুখে ‘জুলাই ঐক্যের’ পদযাত্রা: ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের বর্জনের ডাক
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মেরুকরণ ও রাজপথের উত্তাপ নতুন মাত্রা পেয়েছে। ঋণখেলাপি, দ্বৈত নাগরিক এবং ফ্যাসিবাদ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার দাবিতে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ‘মার্চ টু ইলেকশন কমিশন’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে রাজনৈতিক সংগঠন ‘জুলাই ঐক্য’।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সংগঠক প্লাবন তারিক ও ইসরাফিল ফরাজী এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) অন্তত ৪৫ জন ঋণখেলাপিকে নির্বাচনে লড়ার বৈধতা দিয়ে রাষ্ট্রের আইনের অবমাননা করছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই এ দেশের মানুষ ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার জন্য লড়াই করে আসছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি ধাপে সাধারণ ছাত্র-জনতা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯০০ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের এই পরিক্রমায় বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে, যখনই ভোটাধিকার হরণ বা দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে, তখনই ছাত্রসমাজ রাজপথে নেমেছে।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৬: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার মহাবিপ্লবের পর ২০২৫ সাল ছিল সংস্কারের বছর। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনকে ঘিরে জুলাই ঐক্য দাবি করছে, জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ও সংস্কারবিরোধী শক্তিদের (জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দল) নির্বাচনে অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।
সংবাদ সম্মেলনে জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের এই মুখপাত্র। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
বর্তমানে এই মামলাটি সিআইডি অধিকতর তদন্ত করছে এবং সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আদালত আগামী ২৯ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ধার্য করেছেন। জুলাই ঐক্যের দাবি, রাজধানীসহ দেশজুড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘বসন্তের কোকিলের’ মতো আচরণ করছে। তারা আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অস্ত্র উদ্ধারে দৃশ্যমান অগ্রগতির আল্টিমেটাম দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠক জয়নাল আবেদিন শিশির ও মুন্সি বুরহান মাহমুদ বলেন, "যে নির্বাচন কমিশন গণহত্যাকারীদের আশ্রয় দেয় এবং ঋণখেলাপিদের বৈধতা দেয়, তারা ইনসাফ কায়েম করতে পারবে না।" তারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে এবং ফ্যাসিবাদী শক্তিদের মনোনয়ন বাতিল না করলে শহীদ পরিবার ও ছাত্র-জনতা যে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, তার দায় ইসি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেই নিতে হবে।
সূত্র: যুগান্তর, প্রথম আলো, বাসস (BSS), এবং ২০২৬ সালের আদালত ও নির্বাচনি নিউজ আর্কাইভ।
বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ, বিশেষ সংবাদ ডেস্ক।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |